Published : 10 Jul 2026, 03:13 AM
প্রয়াত সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদ শাহেদ কামাল শোষণমুক্ত প্রগতিশীল সমাজের এক গভীর দর্শন লালন করতেন। অর্থের প্রতি তাঁর কোনো মোহ ছিল না। জটিল সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটগুলিকে তিনি অত্যন্ত সরল ও স্বচ্ছভাবে ব্যাখ্যা করতে পারতেন। তাঁর সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠজনেরা এই গুণাবলীর জন্য তাঁকে স্মরণ করলেন। বৃহস্পতিবার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের 'সাঁঝের মায়া'য় মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) এবং সাঁঝের মায়া আয়োজিত এক স্মরণসভায় এই মূল্যায়ন করা হয়। সেখানে শাহেদ কামালের সহকর্মী, শিক্ষার্থী, স্বজন ও প্রতিবেশীরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক গোলাম রহমান প্রয়াত সহকর্মীর ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁর ছোট বোন মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেন, শাহেদ কামালের জীবন ছিল বহুবিধ বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ, তাই তাঁকে এক বাক্যে বর্ণনা করা কঠিন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শাহেদ কামাল ছিলেন অত্যন্ত সরল মনের মানুষ। 'নিজেরা করি' সমন্বয়ক খুশী কবির তাঁর সরলতার প্রশংসা করেন। সাবেক সংসদ সদস্য আরমা দত্ত মন্তব্য করেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত আধুনিক, এমন আধুনিক যে সমাজ তখনও তাঁর সমকক্ষ হয়ে ওঠেনি। তাঁর নিজস্ব এক স্বতন্ত্র জগৎ ছিল। প্রচণ্ড মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও তিনি কখনো খ্যাতি বা স্বীকৃতির পিছনে ছুটে যাননি। বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ শিক্ষাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ সুব্রত শঙ্কর ধর বলেন, শ্রেণিকক্ষের শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তাঁর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ। তাঁর অনুপস্থিতি সত্যিই গভীর। চিত্রশিল্পী সায়িদা কামাল বলেন, ব্যক্তিগতভাবে যাঁরা তাঁকে চিনতেন, তাঁরা জানেন, তিনি ছিলেন অসাধারণ মেধাবী।
কিন্তু তাঁর আকস্মিক বিদায় আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। স্মরণসভাটি অতুলপ্রসাদ সেনের 'আমায় রাখতে যদি আপন ঘরে' গান দিয়ে শুরু হয়। এরপর মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান সূচনা বক্তব্য রাখেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস সঞ্চালনা করেন। স্মরণসভায় শাহেদ কামালের ছোট ভাই সাজেদ কামালসহ তাঁর স্বজন, শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও প্রতিবেশীরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৭৬ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। ৪ জুলাই তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।।
অত্যাচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে জুলাইয়ের সংগ্রাম: এক অবিস্মরণীয় প্রতিরোধের দলিল